বুধবার, নভেম্বর ২৫, ২০১৫

ভৌতিক চরাচর

চারদিকে হিংসা, ধ্বংস, হাহাকার, 
কোলাহল,
বিকট শূণ্যতা !

এরই ফাঁকে কারা যেন বাতাসে 
ভাসায়ি চলে ভালবাসার গান,
তার গায়ে বিদ্রোহের চাপা গন্ধ !

রাজধানী, জাতীয় সড়ক, সংবাদপত্র
সভা-মিছিলের পদভারে
ক্লান্ত, বিমূঢ়, হতবাক্।

মিছিল ফেরৎ লোকজন দরদাম
শেষে বাজার বয়ে ফিরে যায়
নিজস্ব আস্তনায়, অভ্যাস মতো !

আশা ও কামনায় ফুরিয়ে ফেলা জীবন
নিয়ম করে একদিন মুছে যায়
রেশনকার্ডে।

ঠাকুর্দার বাবার নাম ক'জনা মনে করতে পারে !

আরশি কথা

তোমার কাছে যাব বলে হাত বাড়াইনি
তোমাকে ছুঁয়ে দেখব বলে হাত বাড়াইনি
বহু বছর যাবৎ আমায় অনুসরণ করে করে 
তুমি কতখানি ক্লান্ত 
তা শুধু দেখছি।

রূপকথা / ১

ডুবছি ক্রমাগত বিপুল
জলরাশির অতলে
কি জেনো টেনে নিচ্ছে
ভেসে ওঠার কোনো সুযোগ নেই

জলতলে বালির খাঁজে আটকে একটি নাকছাবি
তাতে কয়েক যুগের দীর্ঘশ্বাস
এইমাত্র অতিক্রম করলাম
বিসর্জনের দিন ঘাটের ভিড়ে কারা যেন বলাবলি
করছিলো, মায়ের মুখের সাথে নাকছাবিটা দারুণ মানিয়েছে

অইটুকু শুধু
মনে হলো, ঘূর্ণির পাকে সেঁধিয়ে যাবার আগে।


একান্তে

কোপাইতে মন চাইলো
বেধড়ক কোপালাম।
এবার শীতে বাগান ভরে যাবে 
নানা রঙে,
ছোট ছোট চারাগুলোর গায়ে
ভোরের শিশির
মনটাকে বড্ড নরম করে দেয় ;
প্রতিটির নামকরণ সারা হলে,
বাবার পায়চারী দেখবো, এবারকার
শীতের বিকেলে।

রবিবার, অক্টোবর ০৪, ২০১৫

খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে

কত কত মৃত্যু 
কত কত হাহাকার
কত কত জন্ম
কত কত জয়গান
সূচিত এই দিবারাত্রি

নিভু নিভু আগুন ছাড়া
কি আর ধরে রাখতে
জানে, 
কি আর ক্ষমতা অতি 
পরিচিত সাত সুরে

তবুও আসন পাতা হয়
তবুও ধূপধুনো জ্বলে
পামুড়ে গোল হয়ে বসে
অভ্যাসের গলায় ও
চির ধরে কখনো কখনো

শুদ্ধ ও কোমল জানে
কতটা গভীরে গেলে
উপরতলায় ফোটে
অনায়াসে, শ্রমের ফুল।