শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৫

প্রত্যাশা

প্রিয় ফুল, তোর পথ চেয়ে আছে
বাগানে প্রতিবেশি সব কোমল চারা।
দু'হাত ভরে মাটিতে মেশাই তোদের
বেড়ে ওঠার সমস্ত সম্ভাবনা।


ফেউয়ের নব্য প্রভুকে

হাতি-ঘোড়া কত গেল তল
মন্ত্রীর শিক্ষা বলে হাঁটু জল !

ফেউয়ের তালে নাচে সে দিগ্বজ
অনিল আকাশ জুড়ে,
বুদ্ধির ঢেঁকি সব মাথা দোলায়
পশ্চাতে লাথির ভয়ে।

হাতের কালি মুখে মাখলো
টেবিলে উল্টে দিয়ে দোয়াত,
চিকন হাসির রোল উড়লো
গলি থেকে ফুটপাত।

সেন্সর কাঁচির উত্তরপুরুষ
হতে চেয়ে যত হাঁকডাক,
বিদ্যার দৌঁড় বিদ্যাটিলায়
অন্ধকূপে. চিচিং-ফাঁক।

হাতি-ঘোড়া কত গেল তল
মন্ত্রীর শিক্ষা বলে হাঁটু জল !

এক উৎসব সন্ধ্যার উপহার

তোমাদের কুশল সংবাদ কোথাও ভিত্তি- 
প্রস্তর সুগঠিত করে তোলেনি।
নির্মাণের স্বপক্ষে দাঁড়ানো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
থমকে যাচ্ছে, বারবার, আরতির আদিখ্যেতায়।
আর প্রণামীর বাক্স উপচে পরা ভীতি-শঙ্কা
ভক্তির উষ্ণতা মেপে চলছে অবিরত।

হুস হুস শব্দ তুলেও তাড়ানো যাচ্ছে না
বহুকালের মজ্জাগত অভ্যাস ও ধারণা।
পরিবর্তনের হাওয়া ঝোলা-বন্দী করে যতই
ঘোরাফেরা করো,
মুখ খুললেই কানে লাগছে, শূণ্যকলসের ধ্বনি।

পুরনো সিলেবাস, কুঁচকে যাওয়া ত্বকের বিজ্ঞাপন।
শীতবস্ত্রে ঘুণ কাঁটার শব্দ আটকায় না। রাত যত
গভীরে যায় দেয়াল ঘড়ির আওয়াজ স্নায়ুতে বিকট ঠেকে।
মা বলতেন,' উৎসবে সামিল হতে যদি না পারো,
অপরিচিত হলেও শেষযাত্রায় সঙ্গ দিও।'

মঞ্চশোভিত পুরনো মুখগুলো আজকাল বড্ড অপরিচিত ঠেকে,
কন্ঠ নিসৃত কোনো বাক্যে কোথাও শ্রমের ঘাম নেই। আমি আর
কখনো উৎসবে যাবনা, মা।

একটি জরুরীকালীন বিজ্ঞপ্তি

আগুন, আমাদের সব নিলো,
মুক্তি দিল না।

তার মাঝে রয়ে গেলাম আজন্ম,
শীতার্ত সব মুখ ঘুরছে চারপাশে।

কোলাহল ভেঙে দিল স্বেচ্ছা-নির্বাসন;
বারান্দায় ছড়িয়ে পড়লো লাল-মাটি।

সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা গুটি কয়েক রঙীন
চপ্পল, সৌজন্যতা মেপে নেমে গেল ধীরে।

ভুল বানানে ভরা সংবাদপত্রে লেপ্টে
রইলো প্রাত্যহিক বিকট সব অন্ধকার।

ভাগাভাগির ষড়যন্ত্রে মেতে থাকা মানুষ
আগামীর কবর খুঁড়ছে নিয়মিত, নিদারুণ।

আগুন, আমাদের সব নিলো,
মুক্তি দিল না।

বন্ধু তোকে

ক্ষিধে পেলে স্কুলব্যাগে উঁচু হয়ে থাকা
টিফিন বক্স এখনো চোখে ভাসে,
যা আমরা ভাগ করে খেয়েছি বহুদিন।

তুই কি এখনও মাখিস জ্যোৎস্না দিয়ে
ভরদুপুর, ঝাল ঝাল চালতার আচার,
তোর সঙ্গ পেতে কত ভোর হয়েছে
মাঝরাতে।

আমাদের অভিমান হলো, ঝগড়া হলো না।
বাড়াবাড়ি রকম ইর্ষা ছিলো আশেপাশে,
কপালে ভাঁজ পরা সহপাঠীরা-
দেখা হলে অপেক্ষা করে কখনো তোর প্রসঙ্গ
তুলি কিনা, মাঝেমধ্যে দু’একজন তোর কথা
বলে আর তাদের প্রতি করুণা বেড়ে যায়।

‘একটি মেয়ে একটি ছেলের কখনো
বন্ধু হতে পারেনা’
এধারণার মৃত্যু হয়নি এখনও ।
লেবেল পাল্টে পাল্টে বেঁচে আছে
প্রাগৈতিহাসিক সব ভাবনা।

আমাদের শতবর্ষ পুরনো স্কুল
নতুন দালান নতুন রঙে সেজেছে দারুণ।
এবার শীতে বাড়ি এলে তুই চিন্তে পারবি না
কিছুই। তোকে অপেক্ষা করতে হবে বর্ষা
আসা অব্দি, পুরনো নর্দমাগুলো ঢাকনা ঠেলে
তখন পরিচয় মেলে ধরে।