শনিবার, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৫

ঘুমের ভেতর কয়েক পংক্তি

ঘুমিয়ে গেলে ডাক দিওনা আমায়
শরীরে ফিরে আসতে হবে অসময়ে

গুলিবিদ্ধ হতে পারি ধর্মান্ধের হাতে
তা'বলে কি ভালবাসতে ভুলে যাব

আগুন নিয়ে খেলা দেখাচ্ছ প্রভু সেজে
প্রতিঘরে আগুন আগলে রেখেছে ভূমি

তোমার সৃষ্ট ভয় পাহাড় গড়ে তোলে
মানুষই তাতে বিজয় কেতন গাঁথে

বারুদের স্তূপে ঢেকে দিচ্ছ তুমি আ- বিশ্ব
ছুঁড়ে দিলাম তাতে তোমারই ঘরের চাবি

ভালবাসতে জানলে তোমাকে মানতাম ঈশ্বর
রক্তপিপাসু তুমি আরাধ্য নও কখনো আমার

ঘুমিয়ে গেলে ডাক দিওনা আমায়
শরীরে ফিরে আসতে হবে অসময়ে

শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৫

শূণ্যজমি থেকে তোমাকে

অন্ধকার আবশ্যক আলোকের,
যতই অমিল থাকুক।
খোলস পাল্টে যায় শুধু
নিজের তাগিদে।
এসব নূতন কথা নয়।

আমরা কেবল বাড়িয়ে চলেছি-
বারুদের স্তূপ, আমাদেরই বিরুদ্ধে।
আর বর্জ্যে ডেকে ফেলছি চারপাশ ;
দিনশেষে একান্তে কঁকিয়ে উঠছে বুক।
এসব নূতন কথা নয়।

তুমি, আমি ভাবছি আজ যা লেখা হলো
সবই নতুন, ইতিহাস।
নিজেকে ভুলিয়ে রাখা, নিজেকে ধাঁধাঁয়
জড়ানো এসবও পুরোনো চাষাবাদ।
এসব নূতন কথা নয়।

বাজার ধরে রাখতে আমরা নষ্ট করতে
শিখে গেছি, অপরিমেয় খাদ্য !
আধেক পৃথিবী অভুক্ত,
আধেক পৃথিবী গৃহহীন...
এসব নূতন কথা নয়।

কে কাকে দোষ দেবে,
কে কার চুলকাবে পিঠ,
গন্ডি এঁকে ঘুরপাকও অনেক হলো,
নিজেকে বাঁচাতে নিজেই ভারাক্রান্ত।
এসব নূতন কথা নয়।

ঘুম থেকে জেগে ওঠা
আর প্রতিটি সূর্য্যোদয়
আমাদের বিপরীতে অবস্থান করছে।

শ্রীচরণেষু মা

মাঝে মাঝে মনে হয় কে যেন ডাকে,
কেউ যেনো পাশে এসে গায়ে হাত রাখলো,
বাতাসে ভেসে আসে নানা শব্দ, নি:শব্দ রাতে
সবাই যখন ঘুমে কাতর-
প্রায়ই আকাশের নিচে এসে বসি,
কখনো চাঁদ, কখনো অন্ধকার
খুলে দেয় সমস্ত দরজা-জানালা।

মা, বাড়ি ফিরতে আজকাল পথ হারিয়ে যাচ্ছে,
রাস্তার সব গাছ কেটে ফেলেছে গতিশীল শহর।
তুমিও কি হারিয়ে ফেলেছ বাড়ি ফেরার পথ ?
চারপাশ দ্রুত বদলে যাচ্ছে,
আমরাও উঠে এসেছি নূতন বাড়িতে
তোমার প্রিয় প্রতিটি গাছ লাগিয়েছি বাগানে,
তবুও এক বিকট শূণ্যতা ঘিরে রয়েছে আমাদের।

বাবা, প্রায়ই বলে, আমি নাকি তোমার মতো,
আমি কিন্তু তাঁদের একা ফেলে যাইনি কোথাও।
কর্কট রোগের কথা শুনতে পেলে যতদূর পারি
ছুটে যাই, বলি, বাঁচার তাগিদ ধরে রাখ,
লড়াইটা জারি রাখ, তোমার সবটুকু দিয়ে।

বেঁচে থাকার লড়াইয়ের চেয়ে
বড় শিল্প আর কিছু নেই।তুমি কি একথা
ভুলে গিয়েছিলে, মা !

ডায়রীর একটি ছেঁড়া পাতা

ভেতরে যেতে পারছি না,
পিছলে যাচ্ছে পা,
শ্যাওলায় ঢেকে যাওয়া বাড়িটি,
একদিন, দারুণ উজ্জ্বল ছিল।

জানালার কাঁচে এখনও লেগে আছে
প্রগাঢ় একটি চুম্বন,
ধূলো, কর্কট মুছে দিতে পারেনি,
তার উষ্ণতা।

ফেলে যাওয়া দিন আজ নিয়ে
এলো, দীর্ঘ পরিভ্রমণ শেষে।
তার চেহারায় থমকে আছে
সময়, বয়েস এখনও সতেরো।

যত নাম ধরে ডাকি-
প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসে
একাকী।
সে তো বধির ছিলো না !

পাখি আমার পাখির আমি

খোলা খাঁচা ছেড়ে উড়ে গিয়েছিল।
অনেকটা সময় কেটে গেল,
পাখি ফিরে এলো আজ হঠাৎ।
আমার লেখার টেবিলে বশে কি যেন
বিড়বিড় করছিলো একাকী,
মুখটা উজ্জ্বল আগের মতোই।

কিছু সময় কথা হলো
ভোরে, চা খেতে খেতে।
ফিরে আসবে বলে, উড়ে গেল পুনরায়।
সব জানালা-দরজা খোলা রাখতে
বলে, আজ কাজে বেড়িয়ে গেলাম।

যাবার সময় সে আচমকা একটি
পালক হাতে দিয়ে গেল,
গাড়ীর ড্যাশবোর্ডে তা সারাদিন
এলিয়ে রইলো,
এখন আমার সাথে বাড়ি ফিরছে।

রাস্তার বাতিগুলো আজ দুপুর রোদের
মতো আলো দিচ্ছে, সন্ধ্যের আগরতলায়
আমি নই কিশোর কুমার যেনো
আমায় গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
দৈব পিছু না নিলে আজ কিছুতেই যাবনা
ফিরে রাতে সংবাদের টেবিলে।

আজ শুধু পাখির গল্প শুনবো পাখির কন্ঠে, সারারাত